শারীরিক সহবাসের পর দেরীতে গোসল নিয়ে বিধান, যা জেনে রাখা খুবই জরুরী - Bali Collection
Home / ইসলামিক / শারীরিক সহবাসের পর দেরীতে গোসল নিয়ে বিধান, যা জেনে রাখা খুবই জরুরী

শারীরিক সহবাসের পর দেরীতে গোসল নিয়ে বিধান, যা জেনে রাখা খুবই জরুরী

যে গোসল করা খুবই অপরিহার্য তাকেই ফরজ গোসল বলে। বালেগ বয়সে নাপাক হলে অর্থাৎ কারো স্বপ্নদোষ হলে বা স্বামী-স্ত্রীর সহবাস সম্পন্ন হলে তখন ফরজ গোসল করা আবশ্যক এবং এটি অত্যন্ত জরুরী। আবার বিভিন্ন কারণেও গোসল ফরজ হয়। ইসলামের বিধানে ফরজ গোসলকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে অবহিত করা হয়েছে। কারণ হলো কারো ওপর গোসল ফরজ হলে সঠিক-শুদ্ধ পদ্ধতিতে গোসল আদায় না করা পর্যন্ত ঐ ব্যক্তি নাপাক থাকবেন। আর এই নাপাকি অবস্থায় তার কোনো প্রকারের কোনো ইবাদত-বন্দেগি করার অনুমতি নেই। সুতরাং সঠিক-শুদ্ধভাবে আমল করার জন্য শারীরীকভাবে পবিত্র থাকার উদ্দেশ্য গোসল ফরজ একান্ত জরুরী। যে সকল কারণে গোসল ফরজ: স্বপ্নদোষ বা উত্তেজনাবশত বীর্যপাত হলে। নারী-পুরুষ মিলনে (সহবাসে বীর্যপাত হোক বা আর নাই হোক)। মেয়েদের হায়েস নিফাস শেষ হলে। ইসলাম গ্রহণ করলে (নব-মুসলিম হলে)। সহবাসের পর গোসল করা জরুরী এবং গোসল করা ফরয। পুরুষের লিঙ্গ নারী যোনিতে প্রবেশ করলেই উভয়ের উপর গোসল ফরয। এতে বীর্যপাত হোক আর না হোক, স্বামী ও স্ত্রীকে ফরয গোসল করে নিতে হবে।

আর সহবাস করবেন রাতের শেষ প্রহরে। এসময় সহবাস করলে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং সারা রাত অপবিত্র অবস্থায় থাকতে হবে না। কিন্তু আপনি যদি রাতের মধ্যাংশে সহবাস করেন, তাহলে আপনাকে গোসল করে ঘুমাতে হবে। নয়তো গোসল না করে ঘুমালে, সারা রাত অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে হবে। মানুষের হায়াত মউতের কোন ঠিক ঠিকানা নেই। কার কোন সময় মৃত্যু হবে তা কেউ জানে না। অপবিত্র অবস্থায় মারা গেলে কবরে জিবরাঈল (আঃ) সাক্ষাৎ করতে আসবে না। রাতের শেষ প্রহরে এমন সময় সহবাস আরম্ভ করবেন, যাতে সহবাস করার পর গোসল করে ফযরের নামায আদায় করতে সক্ষম হন। কোন অবস্থায় নামায মিস করা যাবে না। সহবাস করার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে গোসল করবেন। এতে শরীরের ক্লান্তি দূর হবে এবং ঠাণ্ডাও লাগবে না। ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম:

১. গোসলের আগে মনে মনে নিয়্যাত করতে হবে। বাড়তি কোন আরবি শব্দ উচ্চারণ করে নিয়্যাত করা বিদ’আত। ২. প্রথমে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ৩ বার ধুতে হবে। ৩. এরপর ডান হাতে পানি নিয়ে বাম হাত দিয়ে লজ্জাস্থান ও অন্যান্য স্থান ভালো করে ধৌত করতে হবে। আশপাশ ও শরীরের অন্য জায়গায় নাপাকি লেগে থাকলে তা পানি দিয়ে ধুতে হবে। ৪. এবার বামহাতকে ভালো করে ধুইয়ে ফেলতে হবে।

2. এবার অজুর নিয়মের মত করে অজু করতে হবে কিন্তু দুই পা ধোয়া যাবে না। ৬. এবার অজু শেষে মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে। ৭. এবার সমস্ত শরীর ধোয়ার জন্য প্রথমে তিনবার ডানে তারপরে তিনবার বামে পানি ঢেলে ভালোভাবে ধুতে হবে। মনে রাখতে হবে, যেন শরীরের কোন অংশ যেন শুকনো না থাকে এমনকি একটি লোমও না। নাভি, বগল ও অন্যান্য কুঁচকানো জায়গা পানি দিয়ে ধুতে হবে।

3. সবার শেষে অন্য একটি জায়গায় সরে গিয়ে দুটি পা তিনবার ভালো করে ধুতে হবে। মনে রাখতে হবে: পুরুষের দাড়ি ও মাথার চুল এবং মহিলাদের চুল ভালোভাবে ভিজতে হবে। এই নিয়মে গোসলের পর নতুন করে আর অজু করতে হবে না (অজু যদি না ভাঙে)।সর্বশেষে আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিকভাবে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ মেনে চলার তৌফিক দান করুন।

About editor Admin

Check Also

বিপদে পড়লে মহানবী (সাঃ) যে তিনটি দোয়া পাঠ করতে বলেছেন !

বিপদে পড়লে মহানবী (সাঃ) – আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাকালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *