সারাদেশ

মাদরাসা ছাত্রীকে বিয়ে করে ধরা বিমান কর্মকর্তা!

গোপালগঞ্জে প্রতারণা করে পঞ্চম শ্রেণির মাদরাসা ছাত্রীকে (১১) বিয়ে করার অভিযোগে এক লম্পট ও তার অপর এক সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ।শনিবার বিকেলে শহরের কাঁচাবাজার এলাকা থেকে ছাত্রীর বড় ভাই হানিফ খাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারক জাহিদ শেখ ওরফে মোহাম্মদ আমিন কাওসার (৫০) ও তার সহযোগী বিপীন বালাকে (৫৫) আটক করা হয়।পরবর্তীতে আটকদের তথ্যের ভিত্তিতে ছাত্রীকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ থানা পুলিশ। আটক জাহিদ শেখ ওরফে

মোহাম্মদ আমিন কাওসার সদর উপজেলার ঘড়ইগাতী গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে এবং বিপীন বালার বাড়ি টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামে।হানিফ খা জানান, গত ১৫ এপ্রিল প্রতারক জাহিদ শেখ নিজেকে কুয়েত এয়ার ওয়েজের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েতার মা-বাবাকে ভুল বুঝিয়ে তার ছোট বোন দুর্গাপুর দাখিল মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে কলেমা পড়ে বিয়ে করে। ‘এ সময় সে আমাকে সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে দেবে এবং আমাদের একটি তিনতলা বাড়ি করে দেয়ার কথা বলে।’

তিনি বলেন, ‘আমার মা-বাবা প্রতারক জাহিদের প্রলোভনে পড়ে আমার কিশোরী বোনকে তার সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হয়। পরে ১৮ এপ্রিল জাহিদ শেখ নিজের নাম পাল্টে মোহাম্মদ আমীন কাওসার নামে আমার বোনের সঙ্গে বিয়ে নোটারি করে। এতে আমাদের সন্দেহ হলে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার কিছু ব্যক্তিদের জানাই।’জাহিদের সহযোগী বিপীন বালা বলেন, ‘তিনি শুনেছেন জাহিদ কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে মেয়েদের চাকরি দেন। তিনি তার নিজের মেয়েকে বিদেশে পাঠাতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাহিদ কোনো সংঘবদ্ধ নারী পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকা থেকে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মেয়েদের প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদরাসা ও মসজিদের উন্নয়নে কুয়েত সরকারের অনুদান পাইয়ে দেয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।গোপালগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘ইতোমধ্যে মাদরাসা ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Comment here